
ছবি : মেসেঞ্জার
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ইশরাত ফারজানা সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও গ্রামে গিয়ে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গতানুগতিক প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের বাইরে গিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন শিশুদের একজন, তাদের আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে শামিল হয়েছিলেন প্রাণখোলা মনে।
বরুণাগাঁওয়ের মেঠো পথে পা রেখে ডিসি প্রথমে যান মাসুমা আক্তার হীরার বাড়ি। মাসুমা সদ্যই মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, তার এই সাফল্যে গর্বিত জেলা প্রশাসক ছুটে গিয়েছিলেন তাকে শুভেচ্ছা জানাতে। হীরার চোখেমুখে ছিল আনন্দের ঝিলিক, ডিসির আন্তরিকতায় যেন তার স্বপ্ন আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
এরপর শুরু হয় এক অন্যরকম চিত্র। ডিসি মিশে যান গ্রামের শিশুদের সাথে। তাদের ঘিরে তৈরি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ। গল্প, খুনসুঁটি আর শিশুদের হাজারো প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। তাদের কচি হাতে তুলে দেন উপহার সামগ্রী, যা পেয়ে শিশুরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়। এসময় আশেপাশের কয়েক গ্রামের মানুষও সেখানে এসে জড়ো হন, তারাও এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখে অভিভূত হয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হক জানান, এর আগে কোনো জেলাশাসককে তারা গ্রামে এসে শিশুদের সঙ্গে এভাবে সময় কাটাতে দেখেননি। তিনি বলেন, ‘এখনকার জেলাশাসক একজন মানবিক ও খুবই আন্তরিক মানুষ। তিনি গ্রামের শিশুদের কথা ভাবেন এবং তাদের জন্য কিছু করতে চান।’
মেহজাবিন নামে এক শ্রমজীবী নারী বলেন, ‘আমরা হতবাক! একজন ডিসি এরকম হয় আগে আমরা কোনদিন এভাবে দেখিনি। ডিসির সঙ্গে দেখা করাই আমরা ভাবি ভাগ্যের ব্যাপার। আর তিনি আমাদের গ্রামে এসে শিশুদের সঙ্গে মায়ের মমতা দিচ্ছে এটা এ গ্রামে শিশুদের সৌভাগ্যের বিষয়।’
জেলাশাসক ইশরাত ফারজানা জানান, শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে তিনি খুবই ভালোবাসেন। তিনি মনে করেন, শিশুদের মধ্যে লুকিয়ে আছে অপার সম্ভাবনা। তাদের সঠিক পথ দেখাতে পারলে তারা সমাজের জন্য অনেক ভালো কিছু করতে পারবে। তাছাড়া শিশুরাই তো আগামী দিনের ভবিষ্যৎ!
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যেহেতু একটি জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছি। আমার অনেক কর্তব্য রয়েছে। এটিও একটি কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।’
ইশরাত ফারজানার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মনে করেন, এর মাধ্যমে শিশুদের মনে সাহস ও আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
মেসেঞ্জার/আরিফ/তুষার