ঢাকা,  শনিবার
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

The Daily Messenger

হোটেলে খেতে গিয়ে হয়রানির শিকার শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৫৬, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

হোটেলে খেতে গিয়ে হয়রানির শিকার শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ছবি : মেসেঞ্জার

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বখাটেদের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়ে ইতি দাস (১৯) নামে অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে নিজ বাসভবন থেকে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইতি উপজেলা দাসপাড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সমির দাসের মেয়ে। তিনি বরিশাল বিএম কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহত ইতির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার সরস্বতী পূজা উপলক্ষে তার বন্ধুর সাথে ঘুরতে বের হন। দুপুর ১২টার দিকে তারা বাউফল পাবলিক মাঠ সংলগ্ন ঢাকাইয়া ফাস্টফুড নামের এক রেস্তোরাঁয় যান। সেখানে স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা মহসিন হাওলাদারের ছেলে রিদয় রায়হান তাদের দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং উভয়ের পরিবারকে ডেকে নিয়ে যেতে বলেন। পরে তারা বাউফল থানায় খবর দিলে এসআই শাহিন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যান এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেন। সাড়ে ৪টার দিকে ইতি বাড়ি ফিরে নিজের কক্ষে চলে যান। সন্ধ্যার সময় তাকে ডাকতে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পান।

এ বিষয়ে রিদয় রায়হান বলেন, তিনি তাদের আপত্তিকর অবস্থায় পেয়ে পরিবারকে ডেকে নিয়ে যেতে বলেন। পরিবার না এসে পুলিশ পাঠালে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং মেয়েটি কান্না করতে করতে চলে যায়।

বাউফল থানার এসআই শাহিন গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনার মাষ্টারমাইন্ড হচ্ছে রিদয়। সোমবার থানায় এক ছেলে এসে বলে আমাদের মোটরসাইকেল আটকে রেখেছে। পরবর্তীতে আমি গিয়ে মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। তখন রিদয় আমাকে বলে এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখানে যে মেয়ে সংক্রান্ত বিষয় আছে তা জানতাম না। আমি তাদের থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি কিন্তু তারা তা করেনি।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, ইতি দাসের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেসেঞ্জার/মানিক/তুষার