ঢাকা,  শনিবার
২৯ মার্চ ২০২৫

The Daily Messenger

জমি বিক্রি, ধারদেনা— সব গেল! ২৫ লাখ দিয়েও বাঁচল না মিলন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:৩৯, ২০ মার্চ ২০২৫

জমি বিক্রি, ধারদেনা— সব গেল! ২৫ লাখ দিয়েও বাঁচল না মিলন

ছবি : মেসেঞ্জার

ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণের শিকার কলেজ শিক্ষার্থী মিলন হোসেনকে (২৩) মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা দিয়েও জীবিত ফিরে পায়নি পরিবার। তার নিখোঁজ হওয়ার ২৫ দিন পর পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাত ৩টার দিকে মিলনের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম।

দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র মিলন হোসেনের সঙ্গে অনলাইনে পরিচয় হয় এক তরুণীর। ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।

পরিবার জানায়, ঘটনার দিন রাত ১টার দিকে এক অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ওপাশ থেকে জানানো হয়, মিলনকে অপহরণ করা হয়েছে। প্রথমে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে চক্রটি টাকার পরিমাণ বাড়াতে থাকে— ৫ লাখ, ১০ লাখ, ১৫ লাখ হয়ে সর্বশেষ ২৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

অর্থের জোগান দিতে পরিবার সর্বস্ব বিক্রি করে, ধারদেনা করে। ৯ মার্চ রাতে মিলনের বাবা পানজাব আলী অপহরণকারীদের হাতে মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা তুলে দেন। কিন্তু এরপরও মিলনের আর খোঁজ মেলেনি।

নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ তদন্ত চালিয়ে গেলেও কোনো কুলকিনারা পাচ্ছিল না। অবশেষে প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতদের একজন সদর উপজেলার শিবগঞ্জ মহেশপুর বিট বাজার এলাকার মো. মতিয়ার রহমানের ছেলে মো. সেজান আলী। তিনি এলাকায় কথিত সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা মিলনকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সেজান আলীর বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের নিচ থেকে মিলনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঠাকুরগাঁও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমরা দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছি। তারা স্বীকার করেছে যে মিলনকে হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের দেখানো মতে লাশ উদ্ধার করেছি।’

মিলনের পরিবার তাকে ফিরে পেতে সর্বস্ব দিয়েছিল। জমিজমা বিক্রি, ধারদেনা করে মুক্তিপণের টাকা দিলেও সন্তানকে জীবিত ফিরে পায়নি তারা।

ছেলের মরদেহ পাওয়ার পর পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন বাবা-মা ও স্বজনরা। মিলনের বাড়িতে বইছে শোকের মাতম। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মেসেঞ্জার/আরিফ/তুষার