
ছবি : মেসেঞ্জার
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসানের বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পাথরঘাটা উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিল দলের সভানেত্রী ইসরাত জাহান শিরিন।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টায় বরগুনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিএনপি মহিলা দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিগত ১১ মার্চ ২০২৫ খ্রি. বরগুনা থানায় তার মেয়ের জামাতা মো. সোহান এর নামে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার নং-১৪/২০২৫।
এ ব্যাপারে বরগুনা থানার এসআই সাইদুল ইসলাম তাকে ইং ১৮ মার্চ ২০২৫ খ্রি. বেলা আনুমানিক ১১ টার সময় মুঠোফোনে কল দিয়ে বলেন, আপনার মেয়ের জামাই এর নামে একটি মামলা হয়েছে। আপনাকে আমি জানালাম, আপনি থানায় আসেন। ইসরাত জাহান শিরিন থানার সামনে আসার পর এসআই সাইদুলকে মোটরসাইকেলের উপর বসা দেখতে পান।
তার সাথে কথা বলার পর এসআই সাইদুল তাকে বলেন, আপনার জামাইকে নিয়ে আসুন। শিরিন তাকে দুই এক দিন পর নিয়ে আসার কথা বললে তিনি বলেন, আধ ঘন্টার মধ্যে নিয়ে আসুন। সে তার মেয়ের জামাইকে খবর দিয়ে থানার সামনে নিয়ে এসে এসআই সাইদুলকে ফোন দিলে ফোন বন্ধ পান।
বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে কয়েকবার ফোন দেয়ার পরও এসই সাইদুলের ফোন বন্ধ পেয়ে ইফতারের টাইম হওয়ায় তিনি বাসায় চলে যান। বাসায় যাওয়ার পরও একাধিক বার তার মোবাইলে কল করার পরও নাম্বার বন্ধ পান। আনুমানিক ১০ টার পরে এসআই সাইদুর পুনরায় ফোন দিয়ে ইসরাত জাহান শিরিনকে বলেন, 'আপনার মেয়ে জামাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে' আপনাকে জানালাম।
শিরিন তাৎক্ষণিক মেয়ে সারজিনা মিম ও তার দুই বছরের বাচ্চা এবং তার বোনের ছেলে অনিকসহ থানায় যান। তার মেয়ে চিৎকার করে ও দৌড় দিয়ে তার স্বামীর নিকট যেতে চাইলে বাধা প্রদান করে এবং অকথ্য ভাষায় গালা-গালি করেন। পাশাপাশি মহিলা পুলিশ ডেকে আমাদেরকে থানা থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে বলেন।
ইতিমধ্যে অফিসার ইনচার্জ দেওয়ান জগলুল সাহেব নিজে এবং অন্য পুলিশ দিয়ে তাদের ছবি মোবাইল এ ধারণ করেন এবং তার উদ্দেশ্য করে 'নটি' ও 'রাস্তার মহিলা' বলে গালিগালাজ করেন। শিরিন প্রতিবাদ করে বলেন, 'আমি বাজে মহিলা নই'। প্রয়োজনে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে জিজ্ঞাসা করার কথা বলা হলে ওসি সাহেব দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নাম উল্লেখ করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাবার্তা বলেন।
এক পর্যায় তিনি তাকে বলেন- আমি আপনাকে গ্রেপ্তার করলাম দেখি আপনার কোন নেতা আমার কি করতে পারে। অতঃপর মহিলা পুলিশ ডেকে এনে বিএনপি নেত্রী শিরিনসহ সকলকে মহিলা পুলিশরা টেনে হিচড়ে হাজতখানায় নিয়ে রাখে এবং অনেক আজেবাজে কথা বলেন।
শিরিন অভিযোগ করে বলেন, পরবর্তীতে সে ও তার মেয়ের নামে ওসি সাহেব ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুলিশের সরকারি কর্তব্যকাজে বাধা প্রদান উল্লেখ করে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে বরগুনা থানায় (মামলা নং ২৭/২০২৫, তারিখ ১৮ মার্চ ২০২৫) দায়ের করেন।
উক্ত মামলায় মা ও মেয়েকে ১৯ মার্চ ২০২৫ কোর্টে প্রেরণ করেন পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিন প্রাপ্ত হন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তারা পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন। বরগুনা থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান সাহেবের এহেন কার্যকলাপের ফলে তার ও দলের মানসম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি মা ও মেয়ের উপর আনিত মিথ্যা ও হয়ানিমূলক মামলা থেকে পরিত্রাণ চান এবং উক্ত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বরগুনা জেলা বিএনপি মহিলা দলের সভানেত্রী অ্যাড. রঞ্জন আরা শিপু, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড সোহেল হাফিজ ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
মেসেঞ্জার/হিমাদ্রি/তুষার