ঢাকা,  শনিবার
২৯ মার্চ ২০২৫

The Daily Messenger

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন লংগদুর গুলশাখালী

লংগদু (রাঙামাটি) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৩১, ২৫ মার্চ ২০২৫

আপডেট: ১৫:৩২, ২৫ মার্চ ২০২৫

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন লংগদুর গুলশাখালী

ছবি : প্রতীকী

কথায় আছে প্রদ্বীপের নিচে অন্ধকার। তেমনটাই ঘেটছে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলাবাসীর সাথে। দেশের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ। সেখানে এ জেলার অধিকাংশ এলাকায় এখনো পৌছেনি বিদ্যুৎ। অন্যদিকে, যেখানে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও দিনের পর দিন কাটাতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে। আবার কোথাও উলম্ব আকারে দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যুতের তারবিহীন খুঁটিগুলো।

তেমনি বিদ্যুতের খুঁটি ও সংযোগ থাকা সত্ত্বেও গত ছয়দিন ধরে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ৩নম্বর গুলশাখালী ইউনিয়নের আহসানপুর এলাকার সহস্র মানুষ বিদ্যুৎ বিছিন্ন হয়ে আছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে মানুষের দৈনন্দিন কাজ-কর্মে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, চার বছর আগে উপজেলার আহসানপুরে বিদ্যুৎ সেবা প্রত্যাশীদের জন্য ১০০ কেবি ট্রান্সফরমার বসানো হয়েছিলো। তবে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ সেবা প্রত্যাশী বেড়ে যাওয়ায় লোড বেশি হওয়ার কারণে ট্রান্সফরমারটি বার বার নষ্ট হতো। বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ ট্রান্সফরমারটি কয়েকবার মেরামত করে আবারো নির্ধারিত জায়গায় প্রতিস্থাপন করে।

কিন্তু ৫দিন আগে ট্রান্সফরমাটি আবারো নষ্ট হয়ে পড়লে ওই এলাকার মানুষ বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে। সেবা প্রত্যাশীরা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের কাছে বিষয়টি অবহিত করলে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে নিজেদের উদ্যোগে পরিবহন খরচ দিয়ে পুনরায় ১০০ কেবির একটি ট্রান্সফরমার পাশ্ববর্তী জেলা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা থেকে নিয়ে যেতে হবে। কারিগরি সহযোগিতা করবে বিদ্যুৎ লংগদু বিভাগ।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ সেবা প্রত্যাশী সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ১০০ কেবির ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন করলে প্রয়োজনীয় লোড নিতে না পেরে আবারও নষ্ট হবে। এলাকায় ২৫০ কেবির একটি ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবি তাদের। কিন্তু বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উৎকোচ হিসেবে দেড় লাখ টাকা দিতে হবে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

আহসানপুরের স্থানীয় শিক্ষক শাহ জামাল বলেন, এলাকায় তিন শতাধিক বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। অতিরিক্ত লোডের কারণে ১০০কেবির ট্রান্সফরমারটি কয়েকবার নষ্ট হয়েছিলো। এখনও নষ্ট থাকায় পুরো এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। ফলপ এলাকার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগকে এ বিষয়ে বললে তারা নিজ খরচ বহন করে ট্রান্সফরমার নিয়ে বলেন। কিন্তু ১০০ কেবির ট্রান্সফরমার আবারও স্থাপন করলে অতিরিক্ত লোডের কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমরা ২৫০ কেবির একটি ট্রান্সফরমার চাচ্ছি।

ইন্টারনেট ব্যবসাী ও মিটার স্থাপনের কাজ করা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের পক্ষ হয়ে উৎকোচ চাওয়া সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার ইন্টারনেট ব্যবসা আছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। তবে কাউকে কোনো টাকা-পয়সার বিষয়ে কিছু বলিনি।

লংগদু উপকেন্দ্র বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের উপ-সহকারী ইঞ্জিনিয়ার এরশাদ আলী বলেন, টাকা গ্রহণের বিষয়টি সত্য নয়। তবে আমরা ১০০ কেবির একটি ট্রান্সফরমার লাগানোর জন্য স্থানীয়দের নিজেদের খরচে নিয়ে গেলে আমরা স্থাপন করে দিবো।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা ২৫০ কেবির ট্রান্সফরমার চাচ্ছে। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলেছি, তারা ব্যবস্থা নিবেন।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী (আরই) নজরুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে। এলাকার মানুষ যথাযথ বিদ্যুৎ সেবা পাবে।

মেসেঞ্জার/সাকিব/তুষার