
ছবি : মেসেঞ্জার
চট্টগ্রাম প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বিশ্বের বৃহত্তম ব্যবসায়িক উদ্যোগ প্রতিযোগিতা ‘হাল্ট প্রাইজ’-এর অন-ক্যাম্পাস রাউন্ডের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টিম নেক্সাস।
গতকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর এর সম্মেলন কক্ষে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০ টির অধিক দল অংশগ্রহণ করে। দ্বিতীয় পর্বে উত্তীর্ণ হয় ২৫টি দল। এরপর অংশ নেওয়া ২৫টি দলের মধ্য থেকে সেরা ১৬টি দল সেমিফাইনাল পর্বে উন্নীত হয়। অবশেষে চূড়ান্ত পর্বে বাছাইকৃত শ্রেষ্ঠ ৬টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ফাইনালে উত্তীর্ণ হওয়া দলগুলো হলো: প্ল্যানটিয়ার্স, রেজোনেন্স, নেক্সাস, ট্যুরিস্টিক, কংক্রিট হেডস, দ্য ইনকগনিটো।
চূড়ান্ত পর্বে বিচারক হিসেবে ছিলেন চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ,চুয়েটের গনিত বিভাগের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার দেব, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান, ঢাকা ক্যাপিটালস এর পরিচালক এবং সিইও আতিক ফাহাদ,কে.ডট.কো এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইন্জিনিয়ার শহীদুজ্জামান কিরন, ডিজিডেন আইটি এর সিইও ইন্জিনিয়ার জাবেদ উদ্দীন, রোবট্রি বিডি এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন মুন্না, ইউনিলিভার বাংলাদেশের মেইনটেনেন্স ম্যানেজার অনিন্দ্য দাশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা পরিষদের সহকারী পরিচালক রিয়াদ আশরাফ।
ডিজিডেন আইটি এর সিইও প্রকৌশলী জাবেদ উদ্দিন বলেন, আমি চাই আমাদের এই চুয়েট ক্যাম্পাস থেকে আরও উদ্যোক্তা তৈরি হোক। আজকে যারা প্রেজেন্টেশন দিয়েছে তারা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে যাতে। প্রতি বছর আমাদের ভালো আইডিয়া আসে, তবে প্র্যাকটিক্যালি ইমপ্লিমেন্টেশন এর সময় পিছিয়ে যায়ড়ান্ত ফলাফলে বিচারকদের রায়ে চ্যাম্পিয়ন হয় টিম নেক্সাস এবং ১ম ও ২য় রানার্স আপ হয় যথাক্রমে কংক্রিট হেড এবং প্লান্টিয়ারস।
চ্যাম্পিয়ন দলের আবরার আজমাইন উচ্ছাস প্রকাশ করে বলেন,১ম হাল্টেই এত বড় অর্জন আশা করিনি। তবে প্রেজেন্টেশন চলাকালীন কেন যেন বারবার মনে হচ্ছিল স্রষ্টা নিরাশ করবেন না এবং আলহামদুলিল্লাহ তাই হলো। আয়োজক কমিটি এবং উপস্থিত আমার সকল স্যার ম্যাডামের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ এবং ইনশাল্লাহ আগামীতে আরো বড় অর্জনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব।
হাল্ট প্রাইজের ক্যাম্পাস পরিচালক আদিল রায়হান বলেন,আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে আমরা সফলভাবে অন ক্যাম্পাস প্রোগ্রামটি সমাপ্ত করতে পেরেছি। দীর্ঘদিন পরে চুয়েটে হাল্টের আয়োজন করতে পারাটা আমাদের কাছে নি:সন্দেহে গৌরবের। এর জন্য সম্মানিত শিক্ষকদের পাশাপাশি আয়োজক কমিটির সকল সদস্য ও অংশগ্রহণকারী টিমগুলোর প্রতি নিরন্তর কৃতজ্ঞতা।
তিনি আরো বলেন,তাছাড়া চুয়েটের শিক্ষার্থীদের ইনোভেটিভ চিন্তাভাবনা, বিজনেস মাইন্ডসেট কতোটা শক্তিশালী, তা হাল্টের প্রতিটি রাউন্ডে তাঁরা প্রমাণ করেছে। আশা রাখি, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিজয়ীদলগুলো কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখবে। এবং বিজনেস আইডিয়াগুলো ভবিষ্যতে বাস্তবতয়ায় রূপ পাবে। চ্যাম্পিয়ন, রানার আপসহ অংশগ্রহণকারী প্রতিটি টিম মেম্বারদের জন্য শুভকামনা।
হাল্ট প্রাইজের ডায়মন্ড স্পন্সর হিসেবে ছিল ডিজিডেন আইটি লিমিটেড, মিডিয়া পার্টনার চুয়েটনিউজ২৪ডটকম, চ্যানেল পার্টনার চ্যানেল২৪, লজিস্টিক পার্টনার কেওয়াই স্টিল, ইউথ এন্গেজমেন্ট পার্টনার দ্যা গ্র্যাজুয়েটস এবং প্রিন্ট এন্ড অনলাইন মিডিয়া পার্টনার দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
উল্লেখ্য, ফাইনাল পর্বের বিজয়ী শ্রেষ্ঠ ৩ টি দল অংশগ্রহণ করবে বিভাগীয় পর্যায়ে। বিভাগীয় পর্যায়ের বিজয়ীরা জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করবে এবং জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ।
মেসেঞ্জার/আফনান/তুষার