ঢাকা,  শনিবার
২৯ মার্চ ২০২৫

The Daily Messenger

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য পবিপ্রবির ‘মুক্ত বাংলা’

পবিপ্রবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৭:৩৭, ২৫ মার্চ ২০২৫

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য পবিপ্রবির ‘মুক্ত বাংলা’

ক্যাপশন: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম স্বারক ভাস্কর্য ‘মুক্তবাংলা’ - টিডিএম।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম স্বারক ভাস্কর্য ‘মুক্তবাংলা’। এটি সর্ব সাধারণের কাছে পরিচিত। বিশেষ অতি পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে। এই শিক্ষাঙ্গনের হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর প্রাণের সঙ্গে মিশে আছে এই চোঁখ জুড়ানো ‘মুক্তবাংলা’। লড়াকু মুক্তিকামী বাঙালিদের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনের ইতিহাসকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরতে ‘মুক্ত বাংলা’ নামে স্থাপন করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য। দক্ষিণাঞ্চলের অক্সফোর্ড খ্যাত পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এ ভাস্কর্যটি।

ব্যতিক্রমী এই রুচিশীল স্থাপত্য কর্মটি প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকতে বিজয় ২৪ সড়কের বামে এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনে সবার নজর কাড়ে এ ভাস্কর্যটি। ভাস্কর্যটি স্মরণ করিয়ে দেয় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের কথা। বাঙালির বীরত্বগাথা সংগ্রামকে স্মৃতিতে ধারণ করে আছে ভাস্কর্যটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক ড. সগিরুল ইসলাম মজুমদার এবং ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতাকে আমাদের হৃদয়ে ধারণ করি। এরপরও যখন প্রতি বছর ২৬ মার্চ আমরা 'মুক্তবাংলা'র সম্মুখে উপস্থিত হই, তখন এর মহাত্ব্য ও বিশেষত্ব সম্পর্কে ধারণা পাই। এর মাধ্যমে জানতে পারি আমাদের পূর্ব প্রজন্মের ত্যাগ ও স্বাধীনতার স্বাদ সম্পর্কে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন বলেন, লাখ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের ইতিহাসকে তুলে ধরার প্রয়াসে পটুয়াখালী জেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংবলিত উল্লেখযোগ্য কোনো স্থাপনা না থাকায় মুক্তিযুদ্ধের অমর স্মৃতি জাগরিত রাখার লক্ষ্যে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে একটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও জনতা ব্যাংকের অর্থায়নে ভাস্কর্যটি নির্মিত হয়।

এটির নকশা প্রণয়ন করেন এবং একে অপরূপ সৌন্দর্যে রূপ দেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা ভাস্কর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক হামিদুজ্জামান খান। এর সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

ভাস্কর্যটির পাদদেশে লাল রঙের সিরামিক ইট দিয়ে ঘেরা ১৫ ইঞ্চি উঁচু, ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট গ্রাউন্ড ফ্লোরের ওপর ১৫ ইঞ্চি উঁচু, ২২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট মাটির আরেকটি মেঝে তৈরি করা হয়েছে। এর ঠিক মাঝে কালো গ্রানাইট পাথর দ্বারা সুসজ্জিত একটি আরসিসি বেদির ওপর স্থাপিত হয়েছে ১৯ ফুট উঁচু স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি প্রতীকী এক মুক্তিযোদ্ধা। যার কাঁধে ঝোলানো আছে একটি রাইফেল, মাথায় গামছা বাঁধা ও হাতে রয়েছে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র সংবলিত লাল সবুজের পতাকা। এটি ২০১১ সালের ৩০ মার্চ শুভ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)র তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রফেসর নজরুল ইসলাম।

স্বাধীনতার মাসে 'মুক্তবাংলা' ভাস্কর্যটি আমাদের কি বার্তা দেয়, সে বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম  বলেন, 'আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের 'মুক্তবাংলা' ভাস্কর্য নতুন প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিজয়ের বার্তা দেয়। যাতে এর মাধ্যমে আমাদের যে গৌরবান্বিত ইতিহাস রয়েছে, সে সম্পর্কে তারা ধারণা পেতে পারে।', একটি দেশের ইতিহাসকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ভাস্কর্য। যেটি নিছক কোনো মাটির তৈরি বস্তু নয় বরং এটি বহন করে সে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে।

আধুনিক স্থাপত্যের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা এই ভাস্কর্য প্রতিনিয়ত আমাদের শিক্ষার্থীদের স্মরণ করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য যে দেশপ্রেম এদেশের মানুষ ১৯৭১ সালে দেখিয়েছে তার বাস্তব দৃশ্যই ফুটে ওঠে ‘মুক্ত বাংলা’ ভাস্কর্যে। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের।

উপাচার্য আরও বলেন, পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা ছাড়াও অসংখ্য ভ্রমণপিপাসুকে আকৃষ্ট করে এই ভাস্কর্য। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে শিক্ষা সফরে নিয়ে আসে। ভাস্কর্যকে ঘিরে চারপাশের ফুলের বাগান এই সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে।

‘মুক্ত বাংলা’র সৌন্দর্য ও বিশেষত্ব উপভোগ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী ছাড়াও প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন পবিপ্রবি ক্যাম্পাস।

মেসেঞ্জার/তুষার